সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়ি ও নাজিরহাটে প্রশাসক নিয়োগের গুঞ্জন, আলোচনায় যারা

এস এম আক্কাছ | প্রকাশিতঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৩৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবং নাগরিক সেবায় গতি ফেরাতে নতুন প্রশাসক নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪২ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগের পর এই দুই পৌরসভায়ও সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে স্থানীয় নেতাদের নাম জোরেশোরে আলোচনায় আসছে এবং লোভনীয় এই পদ পেতে শুরু হয়েছে ব্যাপক লবিং ও দৌড়ঝাঁপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে দেশের ৩৩০টি পৌরসভা ভেঙে দেয়। এরপর গত প্রায় দেড় বছর ধরে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাটসহ অন্যান্য পৌরসভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে বিএনপি সরকার দলীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের দিকে এগোচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ঈদের পরই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

প্রশাসক পদে নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসার পর ফটিকছড়ি পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন কাঞ্চন, মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী এবং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অন্যদিকে, নাজিরহাট পৌরসভায় প্রশাসক পদে আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় ত্যাগী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হামিদ চৌধুরী, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সালামত উল্লাহ চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং আরেক বিএনপি নেতা মো. হাসানুল করিম। ইতোমধ্যে এসব নেতারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দলীয় ফোরামে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রশাসক পদের বিষয়ে ফটিকছড়ি পৌর বিএনপির নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী বলেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি মাঠে-ময়দানে জনগণকে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

একইভাবে নাজিরহাট পৌর বিএনপির নেতা মো. হাসানুল করিম জানান, দলের আদর্শ ও ত্যাগ তাঁর কাছে বড় অর্জন। দল যদি তাঁকে মূল্যায়ন করে, তবে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লেলাং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. সরোয়ার হোসেন মনে করেন, পৌরসভায় প্রশাসক দেওয়া হলে নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, পৌরসভায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় গতি এলেও এর কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। এ ছাড়া অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না, সেটিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা খতিয়ে দেখছেন।