
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রশস্ততার অভাব, বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক ও বেপরোয়া গতির কারণে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই এই সড়কের একটি অংশে ১১টি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
সর্বশেষ গত শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে মহাসড়কটির ফটিকছড়ির নয়াবাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিরাজুল ইসলাম নামের ২০ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত ৮ মার্চ রোববার উপজেলার পেলাগাজী দীঘি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কাজ শেষে বাড়ি ফেরা চারজন নির্মাণশ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ২০ জন।
নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশে ২০২৫ সালে মোট ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ১৯ জন নিহত হন। আর চলতি বছর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১১টি দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি তুলনামূলক সংকীর্ণ এবং এর বেশ কয়েকটি বাঁক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সড়কের দুরবস্থা নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন পথচারী ও নিয়মিত যাত্রীরা। স্থানীয় পথচারী দৌলত মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে হাঁটা বা রাস্তা পার হওয়াটাই এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, কারণ অনেক জায়গায় রাস্তা সরু এবং মোড়গুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করা স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জিকু চৌধুরী জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচলে সব সময় একটা ভয় কাজ করে এবং সামান্য অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। স্কুলশিক্ষার্থী আনোয়ার আলীও জানায়, গাড়িগুলো খুব দ্রুত চলায় স্কুলে যাওয়া-আসার সময় রাস্তা পার হতে তার খুব ভয় লাগে।
দুর্ঘটনার লাগাম টানতে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন জানান, গতিবিধি নিয়ন্ত্রণসহ নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চালকদের সতর্ক করতে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়; সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করার মতো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, স্থানীয়দের দাবি যৌক্তিক এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মহাসড়কটি প্রশস্তকরণের বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।