সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্রমবাজারে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ, চাকরি পেয়েছে অর্ধেক

বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংকের অগ্রাধিকার: জোহানেস জাট
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৯:৪৫ অপরাহ্ন

নিয়োগ
গত এক দশকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল মাত্র ৮৭ লাখ। এর অর্থ হলো, কর্মক্ষম তরুণদের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পাননি এবং বিশেষ করে তরুণীরা শ্রমবাজারে কঠিন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এসব কথা বলেছেন।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট তাঁর তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করেছেন। সফরকালে জোহানেস জাট সরকারের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে জোহানেস জাট বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।

কর্মসংস্থান বিষয়ে জোহানেস জাট বলেন, দক্ষতা ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপও এই অঙ্গীকারের অংশীদার। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সরকারি অগ্রাধিকারকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক মনোযোগ আরও বাড়িয়েছে বলে জোহানেস জাট উল্লেখ করেন।

জোহানেস জাট আরও বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছে, যারা মাত্র ৮৭ লাখ কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এর অর্থ হলো, কর্মক্ষম তরুণদের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পায়নি এবং তরুণীরা কঠিন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বিদ্যমান মৌলিক বাধাগুলো দূর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে জোহানেস জাট মত প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক অন্যতম প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সংস্থাটি এ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ ও সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।