সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া ২ কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ রোহিঙ্গা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৮ মার্চ ২০২৬ | ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

Arrest
মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি থাকা দুই কিশোরকে উদ্ধার করার পাশাপাশি চক্রের সদস্য তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই তিন রোহিঙ্গা হলেন সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫) ও মোহাম্মদ হোসেন (৪১)।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে টেকনাফের বড়ইতলী পাহাড় থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ সময় তাঁদের জিম্মিদশা থেকে ওই দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরকে আগেই মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছিল। তবে পুলিশের কৌশল, তৎপরতা ও ব্যাপক চাপের মুখে বাধ্য হয়ে নিজেদের রক্ষার্থে পাচারকারীরা ওই দুই কিশোরকে মালয়েশিয়া থেকে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে ওই দুই কিশোর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় প্রথমে চান্দগাঁও থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাদের বাবা। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন নিখোঁজ এক কিশোরের বাবা।

মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে মো. আব্দুল কাদের মামুন ও মো. ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর চাঁদপুরের মতলব থেকে মামুন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফা নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তফা মালয়েশিয়ায় শিশু পাচারকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। মোস্তফা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল অভিযান চালিয়ে সাব মিয়া, শাহ আলম ও মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তারা সাংবাদিকদের জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তফা ও মো. আব্দুল কাদের মামুন তাদের এক বন্ধুর পরিচিত। তারা বেড়ানোর কথা বলে ওই দুই কিশোরকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের মালয়েশিয়ার দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় তাদের আটকে রেখে মারধর করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হতো বলে জানায় কিশোরেরা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার জানান, দুই কিশোরকে টেকনাফে নিয়ে ৬ থেকে ৭ দিন পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে ট্রলারে করে তাদের মালয়েশিয়া নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক এই মানব পাচার চক্রে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের অপরাধীদের সঙ্গে রোহিঙ্গারাও সরাসরি জড়িত।