সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সন্তান অদেখা রইল আবিদের; ধোঁয়ায় নিভল ইউনুছের দর্জি জীবন

টেরিবাজারে আগুন: পটিয়ার দুই পরিবারে ঈদের আনন্দ গুমরে কাঁদছে
রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২৬ | ৪:৩৭ অপরাহ্ন


আর মাত্র একদিন পরেই ঈদ। চারদিকে যখন আনন্দ আর উৎসবের প্রস্তুতি, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দুটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চট্টগ্রামের টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজার আগুনে নিভে গেছে দুটি তাজা প্রাণ, আর সেই সাথে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুই পরিবারের ঈদের সব আনন্দ। নিহত এই দুই কর্মজীবী মানুষের নাম মুনতাছির সোলায়মান আবিদ এবং মোহাম্মদ ইউনুছ।

তিন মাস বয়সী সন্তান আর প্রবাসের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

ঈদের নতুন জামা আর তিন মাস বয়সী সন্তানের হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের মামুনুল কাদের-এর ছেলে মুনতাছির সোলায়মান আবিদ। মাত্র বছর খানেক আগে বিয়ে করা আবিদ স্বপ্ন দেখছিলেন প্রবাসে গিয়ে পরিবারের হাল ধরার। সেই প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ করে এনেছিলেন তিনি। দিনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতেন, আর পবিত্র রমজান মাসে বাড়তি কিছু আয়ের আশায় রাতে টেরিবাজারে একটি জুতার দোকানে কাজ নিয়েছিলেন।

তার চাচা ও প্রতিবেশী নাছির উদ্দীন আক্ষেপ করে জানান, সেহেরি খেয়ে অর্কিড প্লাজার ৬ষ্ঠ তলায় ঘুমাতে গিয়েছিলেন আবিদ। ৪র্থ তলার আগুন থেকে ওঠা বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার সব রঙিন স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।

দুই যুগের দর্জি জীবনের করুণ সমাপ্তি

অন্যদিকে, জিরি সাইদাঁইর গ্রামের মির্জাবাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুছ টেরিবাজারের পাখিজা টেইলার্সে দর্জির মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। বাবা মোহাম্মদ ইয়াছিন খলিফা-এর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া পেশাকেই ভালোবেসে গত দুই যুগ ধরে আপন করে নিয়েছিলেন তিনি।

ইউনুছের একমাত্র মেয়ের জামাই মোহাম্মদ রাশেদ জানান, বছরের অন্য সময়ে পটিয়া থেকে যাতায়াত করলেও রমজানের কাজের চাপে তিনি পুরো মাস কর্মস্থলেই থাকতেন। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক এই মানুষটিও সারারাত কাজ করার পর সেহেরি খেয়ে ৬ষ্ঠ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে তারও মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যার ফলে দীর্ঘ চব্বিশ বছরের এক কর্মময় দর্জি জীবনের করুণ সমাপ্তি ঘটে।

আগুনের সূত্রপাত ও উদ্ধারকাজ

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান এই অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ১২ তলা বিশিষ্ট মার্কেট-কাম-রেসিডেন্স ভবনটির চতুর্থ তলায় আগুন সীমাবদ্ধ রাখতে তারা সক্ষম হন।

তবে ধোঁয়া উপরের ফ্লোরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ৬ষ্ঠ তলার মসজিদ থেকে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মূলত এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণেই শ্বাসকষ্টে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।