সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৬ মার্চ ২০২৬ | ২:৪৩ পূর্বাহ্ন


বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতা অর্জনের রক্তস্নাত ইতিহাসের স্মারক, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ এবং নয় মাসের প্রাণপণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের বীর শহীদদের প্রতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে পুরো জাতি।

দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভোরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে যাবেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজেদের মতো করে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়, যে গণহত্যায় পুরো জাতি বাক্‌রুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা—বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। এটি জাতিকে অসীম সাহসী করে তোলে এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে বলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেছেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তিনি আহ্বান জানান। মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রবেশের জন্য ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নম্বর গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।