সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ধুলোমাখা ময়দানে শক্তি আর কৌশলের লড়াই

এম মাঈন উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৭ অপরাহ্ন


ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন করতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবারও বসেছিল গ্রাম বাংলার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী উৎসব—বলী খেলা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলের মিষ্টি রোদ যখন রহমতাবাদের মাঠে গড়িয়ে পড়ে, তখন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ধুলোমাখা ময়দানে শক্তি আর কৌশলের যে রোমাঞ্চকর লড়াই, তা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন হাজারো মানুষ।

নারী-পুরুষ আর শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে বিকেল ৩টা বাজতে না বাজতেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী ও ফেনী জেলা থেকেও উৎসাহী দর্শকরা এসে ভিড় জমান। তাদের চোখে-মুখে ছিল টানটান উত্তেজনা, আর প্রতিটি জয়ের পর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিল পুরো ময়দান। ছোট, মাঝারি ও বড়—এই তিন ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগী এবারের মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

মাঠের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া লড়াকুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাহ আলম। দীর্ঘ ২০ বছরের বলী খেলার অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে। মিরসরাই ছাড়াও সীতাকুণ্ড ও ছাগলনাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত শতাধিক আসরে অংশ নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারের আসরে অংশ নিয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে একটি বাইসাইকেল জিতে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ বলী।

অন্যদিকে, ফেনীর সোনাগাজী থেকে ছুটে এসেছিলেন মোশারফ বলী। চট্টগ্রামের বিখ্যাত লালদীঘির ময়দানে জব্বারের বলী খেলায় লড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এবার তিনিসহ চারজন রহমতাবাদের ময়দানে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছেন এবং বেশ কয়েকটিতে বীরদর্পে জয়ও ছিনিয়ে নিয়েছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা এই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। শওকত আকবর সোহাগ, মো. শরফু উদ্দীন, দিদারুল আলম এবং সালাহউদ্দিন—এই চারজনের ঐকান্তিক আয়োজন ও প্রচেষ্টায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবারের আসর।

“এই এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা উৎসবটি মাঝখানে থমকে গেলেও, এখন থেকে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য শওকত আকবর সোহাগ ও শরফু উদ্দীন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কথাগুলো জানান। বিজয়ী বলীদের জন্য কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা তাদের আগামী দিনে আরও উৎসাহিত করবে।

শত বছরের এই গ্রামীণ ঐতিহ্য এভাবেই যুগের পর যুগ টিকে থাকুক, ধুলোমাখা মাঠে বারবার রচিত হোক শক্তি, বিনোদন আর সম্প্রীতির নতুন গল্প—এমনটাই প্রত্যাশা উপস্থিত সবার।