
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি জবরদখল ও ভাঙচুরের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাপ্রহরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক আবদুল হামিদ মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন ছনুয়া মনুমিয়াজীপাড়ার মৃত মাহমুদুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, মৃত অহিদ উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে এহছানুল কাদের চৌধুরী, মৃত মফজলুর রহমান চৌধুরীর ছেলে বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিজান মিয়া, মৃত শরীফ উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে আরেফ উল্লাহ চৌধুরী, মৃত বদরুদ্দৌজা চৌধুরীর ছেলে করিম নওয়াজ চৌধুরী, মৃত শরীফ উল্লাহ চৌধুরীর ছেলে এনাম উল্লাহ চৌধুরী, আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মো. আরাফাত, মো. রাশেদ, ছনুয়া কাতেবপাড়ার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে রুহুল কাদের এবং শুকলালপাড়ার মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে মিজবাহ্ উদ্দিন।
আসামিদের মধ্যে বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিজান মিয়া ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। এ ছাড়া মিজবাহ্ উদ্দিন বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, এহছানুল কাদের চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিজান মিয়া, আরেফ উল্লাহ চৌধুরী, করিম নওয়াজ চৌধুরী ও এনাম উল্লাহ চৌধুরী নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে ভুয়া স্কুল কমিটি গঠন ও জাল দলিল তৈরি করে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
আর্জিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মার্চ রাতে অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন জায়গায় প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। এ সময় তাঁরা লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে উপস্থিত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বাধা দিতে গেলে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বিদ্যালয়ের স্থাবর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পূর্ব পাশের পাকা দেয়াল ভাঙচুর করে এবং এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বাদী জামাল হোসেন পূর্বেও একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারক আবদুল হামিদের আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
অন্যদিকে ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সম্পদ দখলের জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে দফায় দফায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এর আগে তাঁর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তিনি এর আগেও একটি মামলা করেছেন এবং এখন বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জামাল হোসেন আক্ষেপ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিজান মিয়া বলেন, তিনি ভাঙলে তো নির্বাচনের আগেই ভাঙতেন। তাঁদের বাড়ির মহিলারা ভোট দিয়েছেন বাজারের পথ দিয়ে এসে, তাই মহিলাদের ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। কিছুদিন আগে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং হয়তো ভূমিকম্পের কারণেই দেয়ালটি ধসে পড়েছে। বোরহান উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিজান মিয়া আরও জানান, তিনি রুকন নামের একজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।