সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আনোয়ারায় মিড-ডে মিলে ‘কাঁচা ও পচা কলা’, ফেসবুকে ক্ষোভ, তদন্তে প্রশাসন

আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ | ৭:২৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড-ডে মিল’ বা ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কাঁচা, পচা ও নিম্নমানের কলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে টিফিন হিসেবে এসব কলা সরবরাহ করা হয়। সকাল থেকেই সরবরাহকৃত কলার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কলার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আনোয়ারায় ফিডিং কর্মসূচি বা মিড-ডে মিল প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রীতিমতো শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে তামাশা শুরু করেছে। আজ শিশুদের জন্য কাঁচা কলা সরবরাহ করা হলো। সরকারি চুক্তিতে ঠিকাদারের এ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা আছে কি না, তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, মুহাম্মদ শাকিল বিন ইসলাম নামের আরেকজন ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট করে জানান, উত্তর গুয়াপঞ্চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিম্নমানের কলা সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। শিশুদের পুষ্টি ও সুস্থতা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান এবং এলাকার অভিভাবক ও সচেতন মহলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, খাবারের নির্ধারিত তালিকা বা মেন্যু না মানারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইকবাল হোসেন রিমন নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সরকারি পরিপত্র এবং বরুমচড়া নলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবি যুক্ত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাস্তার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী আজ শিক্ষার্থীদের জন্য (বনরুটি ও ডিম) অথবা (বিস্কুট ও কলা) দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বরুমচড়া ইউনিয়নে আজ শুধু একটা কলা দিয়ে দায়সারা ভাবে শিক্ষার্থীদের বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।” শিশুদের পুষ্টির কথা ভেবে চালু করা এই কর্মসূচিতে এমন অবহেলাকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই অনিয়মের তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুষ্টির নামে শিশুদের হাতে এ ধরনের খাওয়ার অনুপযুক্ত কলা তুলে দিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এর আগেও কর্মসূচি শুরুর দিন সময়মতো খাবার না পৌঁছানো এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছিল। নিম্নমানের খাবার দেখে অনেক শিক্ষকও বিব্রতবোধ করছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্যের সাথে কোনো আপস করা হবে না। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে যারা পচা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।” দোষী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আকতার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।”

পচা, কাঁচা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।