
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলোর তরমুজ খেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আবাদ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি যদি আবারও হয়, তাহলে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টির কারণে তরমুজ খেতগুলোতে পানি জমে গেছে। এতে পাকা, আধাপাকা ও কচি তরমুজগুলোর একাংশ পানিতে ডুবে আছে। মাঠে মাঠে সেচ দিয়ে খেত থেকে পানি বের করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনেক স্থানে বিষণ্ণ মনে খেতের ধারে কৃষকদের বসে থাকতেও দেখা গেছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার হিঙ্গুলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা, সাহেরখালী ও কাটাছরা—এই সাতটি ইউনিয়নে মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। মূলত নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকরা জমি ইজারা নিয়ে মিরসরাইয়ে এসে তরমুজ আবাদ করেছেন। তাঁদের দেখাদেখি স্থানীয় কিছু কৃষকও তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে আবাদ হওয়া তরমুজের নিচু জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনরায় বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ডোমখালী এলাকার কৃষক মোহাম্মদ তারেক বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি এবার ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করে পুঁজি উঠেছে। যখন বিক্রি করে লাভের মুখ দেখব, ঠিক সে সময়েই বৃষ্টি হানা দিয়েছে।”
উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে তরমুজ আবাদ করা কৃষক আব্দুল হাই আক্ষেপ করে বলেন, “মহাজন, এনজিও ও শহরের আড়তদার থেকে আগাম টাকা নিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এ বছর এমনিতেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেতে ভালো তরমুজ হয়নি। কঠোর পরিশ্রম করে যা ফলিয়েছি, তাও এখন ভারী বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন অবস্থা এমন হয়েছে, পুঁজিটাও উঠবে না। সরকার যদি আমাদের একটু সহযোগিতা করত, তাহলে হয়তো বাঁচতে পারতাম।”
কাটাছরা ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাত হোসেন বলেন, “এবার ৮ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। মাত্র দুবার ফলন তুলে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর বৃষ্টিতে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
মিরসরাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে সাহেরখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত তরমুজ খেত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। বৃষ্টিতে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং আর বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ হয়তো কিছুটা কম হবে।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, “মিরসরাইয়ের বেশ কিছু ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষকদের পাশাপাশি এবার এখানকার অনেক কৃষক জমি ইজারা নিয়ে তরমুজ আবাদ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে তরমুজ চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবাদ হওয়া জমির প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় খেতের তরমুজ পুষ্ট হয়েছে, চাষিরা সেগুলো দ্রুত বিক্রি করে দিলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”