
সবুজ ঘাসের গালিচায় ২২ জনের বল দখলের লড়াই, আর সেই লড়াইকে নিয়মের সুতোয় বেঁধে রাখার গুরুদায়িত্ব রেফারির। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার সেই গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সন্তান আসহাদুল ইসলাম। আগামী ৭ এপ্রিল ভুটানের মাটিতে যখন ভুটান ও ম্যাকাওয়ের নারী ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবেন, তখন সহকারী রেফারি হিসেবে অভিষেক হবে বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তানের।
দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে সঙ্গী করে রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ড্রুকএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার মাটি ছেড়েছেন আসহাদুল ইসলাম। গন্তব্য হিমালয়কন্যা ভুটান। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) সহকারী রেফারি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজের নাম লেখান ইতিহাসে। কক্সবাজার জেলার প্রথম এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র ফিফা সহকারী রেফারি হওয়ার বিরল গৌরব এখন আসহাদুল ইসলামের ঝুলিতে।
সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০১৩ সালে রেফারিংয়ের বাঁশি হাতে নিয়ে যে রোমাঞ্চকর ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে আজ তা আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। কেবল মাঠের দৌড়ঝাঁপেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি; পড়াশোনাতেও রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। রাজধানী ঢাকার উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক শিক্ষায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন আসহাদুল ইসলাম। এরপর ২০২৪ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ও বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত আসহাদুল ইসলাম। তবে জীবনের এই পরম আরাধ্য সাফল্যের দিনে আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা বিষাদও ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে। নিজের আবেগঘন মুহূর্তের কথা জানিয়ে আসহাদুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অনেক বড় একটি স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। তবে এই সাফল্যের দিনে পরলোকগত বাবা-মাকে খুব বেশি মনে পড়ছে। মূলত তাদের দোয়া এবং আমার নিজের অবিরাম পরিশ্রমই আমাকে আজ এতদূর নিয়ে এসেছে।”
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার মগবাজার এলাকায় বেড়ে ওঠা আসহাদুল ইসলাম বর্তমানে রেফারিংয়ের পাশাপাশি একটি অনলাইন স্পোর্টস শপও পরিচালনা করছেন। তার এই অসাধারণ অর্জনে উচ্ছ্বসিত পুরো কক্সবাজার। ইতোমধ্যে তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন। আসহাদুল ইসলামের এই আন্তর্জাতিক অভিষেক কেবল তার নিজের জন্যই নয়, বরং দেশের হাজারো তরুণ ক্রীড়াপ্রেমীর জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।