সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাছ, মাটি ও গাছ লুটের অভিযোগ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৫:৫৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন হাজিরখিলে এক যুবকের মৎস্য প্রজেক্ট থেকে মাছ, জমি থেকে মাটি ও পাড়ের গাছ কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, যাঁরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই অপকর্ম করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক মো. মহিউদ্দীন মঈনু আদালতে ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই পক্ষ পরস্পর প্রতিবেশী এবং পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘ দিন ধরেই এই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমি ও মাছের প্রজেক্ট দখলে রেখে ভোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকবার বিরোধ চরমে ওঠে। পরবর্তী সময়ে গত ৫ আগস্ট সরকারপতনের পর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এসব দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মাছ, মাটি ও গাছ লুট করার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দীন মঈনু অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন দলিলমূলে খরিদ সূত্রে এই মৎস্য প্রজেক্ট, নাল জমি ও প্রজেক্টের পাড়ের গাছ আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন। আমাদের নামে এসব সম্পত্তির বিএস খতিয়ান চূড়ান্ত প্রচার আছে। কিন্তু গত ২৭ মার্চ দুপুরে প্রতিবেশী মইনুদ্দীন ননী, ফজল করিম মাসুম, মামুন, মহিউদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও নাছিমা আকতার নামের এক নারীসহ ৮-১০ জন দুষ্কৃতকারী মিলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আমাদের মৎস্য প্রজেক্ট, নাল জমির মাটি ও প্রজেক্টের পাড়ের গাছ কেটে লুট করে নিয়ে যায়।”

মো. মহিউদ্দীন মঈনু আরও দাবি করেন, প্রতিবেশী ফজল করিম মাসুম ও মইনুদ্দীন ননীসহ কয়েকজন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্মসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। ভয়ে এলাকার সচেতন লোকজন এসব বিষয়ে এগিয়ে আসতে চান না। মূলত তাঁদের নেতৃত্বেই ওই সব এলাকায় ঢুকে মাছ, গাছ ও মাটি কেটে নেওয়া হয়। তিনি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভুজপুর থানা-পুলিশকে অবহিত করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি বলে জানান।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ঘটনার সময় এসব প্রতিরোধে নিজে এগিয়ে এলে তারা আমার ওপর হামলে পড়ে হত্যার চেষ্টা করে এবং জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরিবারের সবাইকে গুম করে ফেলারও কথা বলে তারা।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. ফজল করিম মাসুম বলেন, “অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের ওপর উদ্দেশ্যমূলকভাবে দলীয় ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। আমি বা আমরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমরা এলাকায় কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। এ কথা এলাকার সবাই জানেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী এসব অনৈতিক ও অন্যায় কাজ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। অভিযুক্তরা নিজেরাই এসব করেছেন বলে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।