সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতা নিজাম বহিষ্কৃত, ফেসবুকে লিখলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৯:২৩ পূর্বাহ্ন


সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নিজাম উদ্দিন সংবাদ প্রকাশের জেরে একুশে পত্রিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এদিকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তির ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে নিজাম উদ্দিন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সদস্য নিজাম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে কোনো রূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বলেন, তাঁকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি নিজেও জানেন না সংগঠনের কী নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

নিজাম উদ্দিন বাঁশখালীর কাথরিয়া ইউনিয়নের বরইতলী এলাকার অলি আহমদের ছেলে।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট বাঁশখালীর কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে একুশে পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় আসামি নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরীর অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে গত বছরের ৪ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এরপর থেকেই তিনি নানাভাবে হুমকির শিকার হচ্ছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ১২ আগস্ট অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে ফোন করে ‘জরুরি তথ্য দেওয়ার’ কথা বলে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা মোড়ে আসতে বলেন।

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন সেখানে পৌঁছানোমাত্রই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজাম উদ্দিন, ছনুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী মোহাম্মদ নুরুন্নবী, বাঁশখালী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরীসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ‘রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিউজ করেছিস কেন? তোকে আজ মেরেই ফেলব’—এই কথা বলে তাঁরা মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে রাসেল চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও নিজাম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

কোতোয়ালি থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিমের নির্দেশে উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আন্দরকিল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল।