
কক্সবাজারের মহেশখালীর প্যারাবন দখলে জড়িত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কুতুবজোম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক রিমনকে গ্রেপ্তার করেছে মহেশখালী থানা-পুলিশ।
মহেশখালীর বিস্তীর্ণ প্যারাবনের হাজার হাজার একর বন উজাড় ও লাখো গাছ কেটে ঘের করে নেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল মহেশখালীর রাজনৈতিক নেতাসহ প্রায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করে উপকূলীয় বন বিভাগ। কিন্তু বন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এ দখলকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় বন মামলার আসামিরা ছাড়া পেয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেই প্যারাখেকোরা দখলবাজি চালিয়ে যান।
গত ৪ এপ্রিল একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে মামলার পেছনের খবর নিয়ে ‘মহেশখালীতে ৫ হাজার একর প্যারাবন গিলছে রাজনৈতিক চক্র: গ্রেপ্তার নেই, থামছে না দখল’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা।
খবরটি প্রকাশ করার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তৎক্ষণাৎ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে মাঠে নামে মহেশখালী থানা-পুলিশ। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মামলার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারলেও আলোচিত দখলদার কুতুবজোম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক রিমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছিদ্দিক রিমন বন মামলার ৪ নম্বর আসামি। গত ৬ এপ্রিল মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ছিদ্দিক রিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় ছিদ্দিক রিমনের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুলিশ। প্যারাবন দখল ছাড়াও গ্রেপ্তার ছিদ্দিক রিমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং বোট ও তেল ব্যবসার আড়ালে মিয়ানমার থেকে অবৈধ কারেন্ট জাল এনে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মহেশখালী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানে নামে। কিন্তু বন বিভাগের মামলার অধিকাংশ আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় তাঁরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। শুধু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী বলে কথা নয়, এ মামলার প্রায় সব আসামি পলাতক আছেন, তবে পুলিশ অনেকের অবস্থান ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছে। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ এখনই তাঁদের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না। পুলিশ আশা করছে দ্রুত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সংবাদ হোক সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার। পুলিশের জন্য সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা খুব জরুরি। একুশে পত্রিকা যেভাবে খবরের পেছনের খবর নিয়ে পেশাদারত্ব দেখিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর বলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সুলতান মন্তব্য করেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সুলতান আরও বলেন, একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তাঁরা আসামিদের ধরতে মাঠে নেমে পড়েন। কয়েক জায়গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু কুতুবজোমে ছিদ্দিক রিমন ছাড়া বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি। তবে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহেশখালীর সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সুলতান বলেন, অপরাধীদের খোঁজ পাওয়া মাত্রই যেন পুলিশের কাছে বার্তা দেওয়া হয়।