সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

উখিয়ায় নাফ নদীর চরে স্থলমাইন বিস্ফোরণ, রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের উখিয়ার বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার নাফ নদীর শূন্যরেখার অভ্যন্তরে জেগে ওঠা চর ‘নারিকেল বাগান’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মো. সাদেক নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আহত যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫)। মো. সাদেক উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ ১৩ ব্লকের বাসিন্দা বশির আহমদের ছেলে। বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় মো. সাদেককে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। পরে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে মো. সাদেককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ শুক্রবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মো. সাদেক কক্সবাজার সদর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শান্তনু ঘোষ বলেন, মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক মো. সাদেকের বাম পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মো. সাদেকের শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও জখম আছে। মো. সাদেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ নিশ্চিত করেন।

বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নেরিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীর মায়ানমারের অভ্যন্তরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রোহিঙ্গা যুবক মো. সাদেক। ফেরার সময় মাইন বিস্ফোরণে মো. সাদেক গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মো. সাদেককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান বলে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাফ নদীর পূর্ব দিকেই মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য। আহত যুবক মো. সাদেক নাফ নদীর প্রশাখা জাইল্যাখালীর শেষ প্রান্তে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। মাছ ধরে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরার সময় শূন্যরেখার ‘নারিকেল বাগান’ এলাকায় পৌঁছালে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ ঠেকাতে নাফ নদীর শূন্যরেখাতে জেগে ওঠা কয়েকটি চর ও আশপাশের সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মো. সাদেকের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মো. সাদেকের ডান পায়ের হাঁটুর নিচেও গুরুতর জখম হয়।

বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমায় আশ্রয়শিবিরে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। তাই কিছু রোহিঙ্গা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে নাফ নদীতে নামেন। ওই রোহিঙ্গাদের অনেকেই আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আহত হচ্ছেন বলে রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম অভিযোগ করেন।

পুলিশ জানায়, চলতি বছর ২৯ মার্চ দুপুরে উখিয়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল হাকিম (১৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা কিশোরের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। আবদুল হাকিম বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) ‘এ’ ব্লকের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের ছেলে। এর কয়েক দিন আগে একই উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলাম (২৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে শহীদুল ইসলামের একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়। শহীদুল ইসলাম একই আশ্রয়শিবিরের এফ-৫ ব্লকের বাসিন্দা চান মিয়ার ছেলে।