
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্তত ৮টি পাহাড় কাটার খবরে গত ৯ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সরেজমিনে ওইসব পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার খাড়িছড়া, এয়াতলংপাড়া, মরাডলু, লেমুয়া, তিনটহরী ও বড়ডলু এলাকায় বিভিন্ন পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন, সদস্য ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী।
এছাড়াও পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা তাহিরা, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান আহম্মদ এবং মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ। পরিদর্শন শেষে উল্লেখিত স্থানগুলোতে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন জানান, এসব পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। যারাই পাহাড় কাটা কিংবা পরিবেশ ধ্বংসে সম্পৃক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন মো. মোতাহার হোসেন।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল সকালে সচিবালয়ের সভাকক্ষে ‘পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পাহাড় কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।