সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ওসমান হাদি হত্যায় চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ীর কী সম্পৃক্ততা?

রিমান্ডে খুলবে কি রহস্যের জট?
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:২৫ অপরাহ্ন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর চট্টগ্রামের সম্পৃক্ততা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি হাতবদল হয়ে চট্টগ্রামের একটি অস্ত্র বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এসেছিল। এই সূত্র ধরে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দিগ্ধ আসামি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল হক হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভুঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

যেভাবে অস্ত্রটি চট্টগ্রামে পৌঁছায়

নরসিংদী থেকে উদ্ধার হওয়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটির মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে এর সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করে সিআইডি। এরপরই বেরিয়ে আসে অস্ত্রটির ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার পথপরিক্রমা:

* প্রথমে ঢাকার ‘এম আই এইচ আর্মস কোম্পানি’ পিস্তলটি আমদানি করে।

* ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর তারা এটি ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’-এর কাছে বিক্রি করে।

* পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের প্রতিষ্ঠানের কাছে পিস্তলটি বিক্রি করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, চট্টগ্রামের এই প্রতিষ্ঠানের মালিকই হলেন গ্রেপ্তারকৃত আসামি মাজেদুল হক হেলাল।

লাইসেন্স ছাড়াই চট্টগ্রামে অস্ত্র ক্রয় ও হাতবদল

সিআইডির রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে চট্টগ্রামের এই অস্ত্র ব্যবসায়ী হেলালের লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই তিনি ঢাকার প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রটি কিনেছিলেন। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো—চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ীর হাত থেকে কীভাবে এই অস্ত্রটি অন্য আসামিদের (হত্যাকারীদের) হাতে গিয়ে পৌঁছাল, তা উদ্ঘাটন করা। এই রহস্য জানতেই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক আসামি হেলালের কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে, তিনি মাথা নেড়ে কিছু বলবেন না বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও, মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন, যার ধারাবাহিকতায় এবার চট্টগ্রামের এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা ও অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার বিষয়টি সামনে এলো।