সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৩৯ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস’ অনলাইন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সহায়তা কামনা করেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্মিলিত এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ারও অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। কোনো দেশ এককভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জ্বালানিসংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা ব্যবস্থাপনা, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এ ছাড়া মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’–এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ একা এমন সংকটে পড়েনি, তাই একক প্রচেষ্টায় এটি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। চলমান জ্বালানিসংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নেন। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচি।

বুধবার দুপুরের পর সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।