
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ‘তোপের মুখে’ পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারাই তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, মব সৃষ্টি করে কাউকে অপমান বা হেনস্তা করাকে তারা কখনোই সমর্থন করেন না। সেদিন এম মনজুর আলমের বাসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় বিএনপি নেতারাই হাসনাত আবদুল্লাহকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছিলেন। এ সময় তিনি বিএনপি নেতা শাহেদ আকবরের নাম উল্লেখ করে জানান, শাহেদ আকবরসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে তার গাড়িতে তুলে দেন এবং ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।
সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসার সামনে মব তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যারা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন এবং যেসব ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের সঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ একপ্রকার বেইমানি করেছেন বলে ক্ষুব্ধ যুবকরা মনে করেছিলেন। সেই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই ছাত্র-জনতা এবং জুলাই যোদ্ধারা এম মনজুর আলমের বাসার সামনে জড়ো হয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি সবসময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা, কারাবরণ করা এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বর্তমান সিটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, যেকোনো প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানাবেন। এম মনজুর আলম বা তার চেয়েও জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি আগামীতে নির্বাচন করতে চাইলে তাতেও তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান, যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই তারা গত ১৬ বছর ধরে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার একসময়ের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, যেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গুঞ্জন রয়েছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রাম থেকে এম মনজুর আলমকে নিজেদের মেয়র প্রার্থী করতে চায় এনসিপি। ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত জানান, বাকি সাত সিটি করপোরেশনেও তারা অল্প কিছুদিনের মাঝেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনাও করছে। এখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এম মনজুর আলমকে এনসিপি থেকে মনোনয়ন দেওয়ার রাজনৈতিক গুঞ্জন কতটা সত্যি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।