
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলা এবং ভিডিও ধারণের সময় এক টেলিভিশন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনায় আহত চার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টায় অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা।
আহত চার শিক্ষার্থী হলেন— যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র আলীমুল শামীম, চতুর্থ বর্ষের মাহবুব হোসেন ফরহাদ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবির এবং আশিকুর ইসলাম। এর মধ্যে আবির হাতে গুরুতর আঘাত পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিক্ষার্থীরা জানান, রেলক্রসিং সংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেলে খাবার শেষে বাসে ওঠার সময় পেছন থেকে কেউ একজন মজার ছলে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেন। এ সময় স্থানীয় দুই ব্যক্তি তেড়ে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। একপর্যায়ে সময় টিভির প্রতিনিধি আবির ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় অপর শিক্ষার্থীদেরও মারধর করা হয়।
আহত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে হোটেলে খেতে গিয়েছিলাম। খাওয়া শেষে বাসে ওঠার জন্য দাঁড়ালে পেছন থেকে দুজন স্লোগান দেয়। তখন স্থানীয় দুজন তেড়ে এসে আমাদের তিনজনকে ঘুষি মারতে শুরু করে। আবির ভিডিও করতে গেলে তার হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। সে হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছে।”
হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “এ ধরনের ধারাবাহিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা চবিয়ানদের ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে চলেছে। প্রশাসনকে বলব, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করুন। শিক্ষার্থীদের স্থানীয়দের হাতে বারবার মার খাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চবিয়ানদের বলব, দায়িত্বশীল আচরণ করুন, প্রশাসনিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “একজন সাংবাদিকসহ তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের খবর পেয়ে আমরা পুরো টিম ঘটনাস্থলে আসি। আহতদের মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং একজন চবি মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাটহাজারী থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন, দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
চবি মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম জানান, আহত আশিক ও আবিরকে নিয়ে এসেছিলেন তাদের বন্ধুরা। আবিরের বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আশিকের বাম হাতের মাংসপেশিতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে, তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।