
দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শনিবার শেষ হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অংশগ্রহণের হার ছিল তুলনামূলক কম। নানা জটিলতায় পরীক্ষা পেছানোর কারণেই মূলত উপস্থিতির সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ায় মোট ১ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থীর এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিদিনই উপস্থিতির হার ছিল কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দিনে অংশ নেয় ১ হাজার ১৬৫ জন এবং অনুপস্থিত থাকে ৬৭৮ জন। দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত ছিল ১ হাজার ১৬২ জন, অনুপস্থিত ৬৮১ জন। তৃতীয় দিনে অংশ নেয় ১ হাজার ১৬০ জন, অনুপস্থিত ৬৮৩ জন। আর শেষ দিনে অংশ নেয় ১ হাজার ১৫৯ জন এবং অনুপস্থিত থাকে ৬৮৪ জন শিক্ষার্থী।
তবে কম উপস্থিতির এই হতাশার মাঝেও পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য দেখা যায়। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পার্থিব দে নামের এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সে উপজেলার চক্রশালা মাতঙ্গিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। চোখের সমস্যার কারণে পার্থিব দের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময়ও দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।
পরীক্ষার হল পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা হরিণখাইন জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইসমত আরা আলম জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হলেও যারা অংশ নিয়েছে, তারা উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একজন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার জানান, এই পরীক্ষাটি সাধারণত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও মামলাজনিত জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পটিয়ার বাইরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে গেছে, ফলে তাদের অনেকেই এই পরীক্ষায় অংশ নিতে আর আগ্রহ দেখায়নি।