সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মানিকছড়ির দুর্গম অঞ্চলে রোটারি ক্লাবের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১:২৩ অপরাহ্ন


খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোটারি ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীন সিন্দুকছড়ি জোনের সহযোগিতায় যোগ্যছোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিশু বিশেষজ্ঞ এবং সিন্দুকছড়ি জোন সদর দপ্তরের মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিকিৎসক দল দুর্গম এলাকা থেকে আসা প্রায় সহস্রাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এ সময় চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয় এবং ১৫০ জন রোগীকে চশমা দেওয়া হয়।

এছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে ছানি রোগে আক্রান্ত ১০০ জন রোগীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে রোটারি ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটির ব্যবস্থাপনায় এবং সিন্দুকছড়ি জোনের সহযোগিতায় এসব রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিন্দুকছড়ি জোনের অধিনায়ক ২০ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি লে. কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি (পিএসসি, জি)। আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র ও প্রবীণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন তানজিদুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম এম আকিফ ইউসুফ নাজিব, মং রাজা মংপ্রুসাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রোটারিয়ান কুমার সুইচিং প্রু সাইন, রোটারি ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোরশেদ আলম ও মুহাম্মদ সাজেদুল হক, বর্তমান প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোহাম্মদ এমদাদুর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কাউয়ুম, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের ক্যাম্প কো-অর্ডিনেটর মো. জসীম উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় জনসাধারণ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেওয়া এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এমন আয়োজন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী।