সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

অ্যামোনিয়া সংকটে চট্টগ্রামে ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১:৫৬ অপরাহ্ন


গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বড় তিনটি সার কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আগে থেকেই বন্ধ ছিল চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এবার কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহের অভাবে একই এলাকায় থাকা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মজুত থাকা অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা।

দেশের কৃষিখাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে এই কারখানা স্থাপন করা হয়। আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানায় দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা কারখানাটিতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হচ্ছিল।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ডিএপি কারখানাটি পার্শ্ববর্তী সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহের ওপর নির্ভর করে আসছিল। কিন্তু গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই দুটি কারখানার ওপর নির্ভরশীল ডিএপি কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়।

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপক প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল জানান, আগে থেকে মজুত থাকা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে এতদিন উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে কোনো সরবরাহ না আসায় মজুত ফুরিয়ে যায়, ফলে বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।