সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আ.লীগ আমলের এপিপি পেলেন বিএনপির মনোনয়ন, বান্দরবানে তোলপাড়

রিজভী রাহাত | প্রকাশিতঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭:৪১ অপরাহ্ন


বান্দরবানে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে তিন পার্বত্য জেলার মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাধবী মারমা দলের কোনো সদস্য নন। দুঃসময়ে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে কখনো দেখা যায়নি এবং তিনি বিএনপির রাজনীতিও করেননি। তাঁর মতো একজনকে মহিলা এমপির মনোনয়ন দিয়ে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার ত্যাগী বিএনপি নেত্রীদের অপমান করা হয়েছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, ত্যাগ, শ্রম, মামলা-হামলা ও কারানির্যাতন সহ্য করে যাঁরা রাজনীতি করেছেন, সুসময়ে তাঁদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী এবং দলের কোনো পদে না থাকা একজনকে মনোনয়ন দেওয়া মোটেও উচিত হয়নি। এতে মানুষের দলের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ জানান, তাঁর জানামতে মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। তবে মাঝে মাঝে তাঁকে বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যেত। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কীভাবে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। এটি দলের হাইকমান্ড ভালো বলতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমার বাড়ি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ডং নালা এলাকায় হলেও বৈবাহিক সূত্রে তিনি বান্দরবানের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বান্দরবান শহরের উজানী পাড়া এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় আইনজীবী মাধবী মারমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং এলএলএম পাস করেন।

বান্দরবান জেলা বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফৌজদারি মামলার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক মনোনীত নোটারি পাবলিকের আইনজীবী হন তিনি। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়ে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের একাংশে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনথি ইয়া নামের একজন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, আওয়ামী লীগের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাধবী মারমা বিএনপির মহিলা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন। অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের দলীয় এপিপি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকার কর্তৃক মনোনীত নোটারি পাবলিকের আইনজীবী ছিলেন। আবারও অভিনন্দন আপু।

বান্দরবান শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক জগদ্বীস বড়ুয়া বলেন, মাধবী মারমা কোনো সময় দলের পক্ষে কাজ করেননি এবং তাঁর পদ-পদবিও ছিল না। নির্বাচনের সময় তাঁর আসা-যাওয়া শুরু হয়। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বান্দরবানের জিয়া সাইবার ফোর্সের যুগ্ম-আহ্বায়কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে এপিপি, অন্তর্বর্তীতে জেলা পরিষদের সদস্য এবং বিএনপিতে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য! মাধবী মারমা সত্যি অসাধারণ মেধাবী, অভিনন্দন।

এ বিষয়ে জানতে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনে বান্দরবান থেকে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁরা হলেন জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উমেসিং মারমা, যুগ্ম সম্পাদক শিরিনা আক্তার এবং অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। এঁদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় ছিলেন উম্মে কুলসুম লীনা।