সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ‘এমটি নিনেমিয়া’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৩০ অপরাহ্ন


দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসতে হচ্ছে না।

ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, ক্রুড অয়েল লোড করে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ১২ দিন পর এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট গত ১২ এপ্রিল রাত থেকে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা ‘নর্ডিক পোলক্স’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের ছাড়পত্রের জন্য সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষপর্যন্ত তা দৃশ্যমান হয়নি।

বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়।

দেশে প্রতি বছর আমদানি করা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই বেশি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়, যেখান থেকে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়। দেশে পরিশোধন করা হলে জ্বালানির দাম কম পড়ে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও জোরদার হয়।