সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশের সামনেই বিচ্ছিন্ন হলো গোড়ালি! ‘গাফিলতি’ নিয়ে মুখ খুললেন সিএমপি কমিশনার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১:১৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর লালদিঘি এলাকায় সিএমপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সিএমপি কমিশনার বলেন, সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি বলে জানান তিনি।

সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শওকত আলী বলেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার গ্রাফিতির লেখা মোছাকে কেন্দ্র করে সকালে ও বিকেলে দুই দফায় সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সোমবার রাতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তন করলে পরদিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেলে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বুধবার সকালে আহতদের দেখতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একই অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবারের এই সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের কর্মী আশরাফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।