
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করে মামলার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
বুধবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিবিরকর্মী আশরাফুল ইসলামকে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু সাদিক কায়েম বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, এটি পরিষ্কার। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। যারা আহত হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মামলা করা হবে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার জন্যই এই সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, মঙ্গলবার সিটি কলেজের দেয়ালের একটি গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহৃত হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে উভয় পক্ষ।
ডাকসু ভিপি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে এক শিক্ষার্থীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুরুতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলার পর একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বহিরাগতদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ফের আক্রমণ চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ডাকসু ভিপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম। তিনি দাবি করেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরাই প্রথমে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে। গ্রাফিতি মুছে ‘গুপ্ত’ লেখায় তারা হামলা করে। তারা যদি গুপ্ত না হয়, তাহলে তাদের গায়ে লাগল কেন!
এদিকে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সঙ্গে লালদীঘির পুলিশ সদর দপ্তরে দেখা করেন আবু সাদিক কায়েম। সেখানে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তদন্ত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করাসহ ছয় দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পুলিশ কমিশনারের হাতে তুলে দেন।