
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে আবারও শিক্ষকতা পেশায় ফিরেছেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। দেশের সংকটময় সময়ে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হাজিদের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন। সরকারি সেই দায়িত্ব পালন শেষে তিনি এখন ফিরে গেছেন তার পুরোনো কর্মক্ষেত্র চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আল-জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়ায় (জিরি মাদ্রাসা)।
বর্তমানে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেছেন। সপ্তাহে দুই দিন তিনি তিরমিজি শরিফ ও তাহেরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত এই দুটি বিষয়ে ক্লাস নেন তিনি। প্রিয় শিক্ষককে আবার কাছে পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আনন্দিত।
প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম (মহাপরিচালক) মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব জানান, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ২০২১ সাল থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানে মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদ্রাসায় সময় দিতে পারেননি। দায়িত্ব শেষে তিনি আবার ফিরে আসায় তারা গর্বিত। মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব আরও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে তিনি নিয়মিত তিরমিজি শরিফ ও তাহেরিকে দারুল উলুম দেওবন্দ পড়াচ্ছেন।
সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, শিক্ষকতাই তার মূল পরিচয় এবং জীবনের এই পর্যায়ে এসে আবার শিক্ষার্থীদের মাঝে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। বাকি সময়টুকু তিনি শিক্ষার সঙ্গেই কাটাতে চান। ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আরও জানান, তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং মসজিদের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে ব্যস্ততা কমানোর জন্য কিছু দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
নিজের শিক্ষকতার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জিরি মাদ্রাসায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলাদলি নেই এবং শিক্ষকদের মধ্যেও আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
উপদেষ্টার দায়িত্বপালনকালে হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, তিনি সিন্ডিকেটকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেননি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল এবং প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা ছিল যেন কোনো হাজি হজে যেতে ব্যর্থ না হন।
মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের ক্লাস খুব উপভোগ করেন। তিনি শুধু পাঠ্য বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং বাস্তব জীবনের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করেন। তাদের একজন শিক্ষক দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলার বাণী ও দি বাংলাদেশ টাইমস-এ কাজ করেছেন। খ্যাতিমান এই লেখক, গবেষক এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। মধ্যপন্থী আলেম হিসেবে পরিচিত ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামি জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দায়িত্বের ব্যস্ততা পেরিয়ে জ্ঞানের আলোয় এই শিক্ষকের প্রত্যাবর্তন শিক্ষাঙ্গনে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।