
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এক নারীসহ চারজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকার আবদুল ছলিমের ছেলে নূরুল আবছার, পটিয়া উপজেলার সুবলদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার, বাঁশখালীর কালিপুর ইউনিয়নের পূর্ব গুনাগুরি এলাকার জাহাঙ্গীর আলম এবং আনোয়ারা উপজেলার বারকানিয়া এলাকার জয়নাল উদ্দিন। জানা যায়, আবদুল ছলিমের ছেলে নূরুল আবছার একটি অনলাইন ফেসবুক পেজের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার সজল কান্তি দাশ (যিনি সজর বৈদ্য নামেও পরিচিত) অভিযোগ করেন, ইয়াসমিন আক্তার প্রথমে তার বাড়িতে গিয়ে কৌশলে তাকে জড়িয়ে ধরে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এরপর নূরুল আবছার, জাহাঙ্গীর আলম ও জয়নাল উদ্দিন সেখানে প্রবেশ করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সজল কান্তি দাশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন নূরুল আবছার, জাহাঙ্গীর আলম, জয়নাল উদ্দিন ও ইয়াসমিন আক্তার।
সজল কান্তি দাশ জানান, সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে নারাজ ছিলেন এবং দুই লাখ টাকার কমে কোনো সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নূরুল আবছার, ইয়াসমিন আক্তার, জাহাঙ্গীর আলম ও জয়নাল উদ্দিনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। স্থানীয়রা জানান, আটক ব্যক্তিরা কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত নন, বরং তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা জয়ন্ত জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ চারজনকে থানায় নিয়ে এসেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।