
রামগড় ঘুরে এসে : খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলায় এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতির নতুন দ্বার উন্মোচনের আশা জাগছে।
ইতোমধ্যে রামগড় উপজেলার মহামনি এলাকায় ফেনী নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এখন স্থলবন্দরের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রামগড় স্থলবন্দর সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ।
স্থলবন্দরটি পুরোদমে চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়, উচ্চশিক্ষা ও পর্যটন খাতের প্রসারের পাশাপাশি সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থলবন্দরের কাজ শেষ হলে এই এলাকার মানুষের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তাদের আর্থিক উন্নতির পথ সুগম হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের মানুষই উপকৃত হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থলবন্দরকে ঘিরে ১০ একর জায়গায় বন্দর টার্মিনাল, সড়কপথ, গুদামঘর, চেকপোস্ট, কাস্টমস ও বিজিবি’র জন্য জমি অধিগ্রহণসহ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
এরই মধ্যে রামগড়-হেঁয়াকো-বারৈয়ারহাট সড়কে ১৬টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণসহ সাতটি প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।
এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বিদেশি ঋণ থেকে ৫৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ২৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হচ্ছে।
রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়াত মোর্শেদ ভুইয়া মনে করেন, এই বন্দরের মাধ্যমে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এবং ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যের বাসিন্দাদের ভ্রমণের সুযোগ ও কানেকটিভিটি বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক উন্নয়নসহ সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাণিজ্যের অভাবনীয় প্রসার ঘটবে।”