
ফিরে যা তোরা কলকারখানা, নিয়ে যা বিষাক্ত ধোঁয়া,
আমার পাহাড় চাইছে এখন শীতল মেঘের ছোঁয়া।
কোথায় হারালো পাহাড়ের চূড়া, সেই যে মাচান ঘর?
প্রযুক্তির এই আগ্রাসনে সবুজ হয়েছে পর।
বিলের বুকে সোনাঝরা ধান, সোনালি রোদের হাসি,
কৃষাণ-কৃষাণীর প্রাণের উৎসবে মেতে থাকতাম পাশাপাশি।
ধান কাটা শেষে বিলের কাদায় মাছ ধরার সেই ধুম,
ভিনদেশি ওই বিনিয়োগকারী কেড়ে নিল সব ঘুম।
বিকেলের ওই পাহাড়ের শিখর, ঠান্ডা হাওয়ার গান,
এখন সেখানে ইট-পাথরের দীর্ঘশ্বাসে ম্লান।
টাকা আর ওই প্রযুক্তির মোহে বেচে দিলি দেশ-মাটি,
আমাদের সেই সহজ জীবনই ছিল সবার চেয়ে খাঁটি।
ভিনদেশি ওই হাতের ছোঁয়ায় হারিয়েছি মোর প্রাণ,
ফিরিয়ে দে মোর লাল পাহাড়ের হারানো সুবাস-ঘ্রাণ।
নিয়ে যা তোদের যান্ত্রিক অভিশাপ, নিয়ে যা প্রযুক্তির জট,
আমার দেয়াং ফিরে পাক তার পুরোনো সেই দৃশ্যপট।
নিয়ে যা তোদের যন্ত্রের মেলা, বিষিয়ে ওঠা প্রাণ,
ফিরিয়ে দে মোর ছায়া-সুনিবিড় পুরোনো সেই গান।
দেয়াং পাহাড় মুক্তি চায় ওই কংক্রিটের থাবা থেকে,
আবার যেন পাই সেই দিনগুলো সবুজ আঁচলে ঢেকে।
ফিরে যা তোরা যন্ত্র নিয়ে, যন্ত্রের যত রাশি,
শান্ত আমায় থাকতে দে আর থামিয়ে অট্টহাসি।
দেয়াং পাহাড়ের সেই লাল মাটি, সেই যে শৈশব বেলা,
বিনিয়োগের ভিড়ে আজ হারিয়েছে সব মেলা।
বিনিয়োগের ওই যান্ত্রিক চাপে সব হয়েছে পর,
কোথায় হারালো শস্যের খেত, সেই যে মাচান ঘর?
মনে পড়ে কি হাশেম রেজা, আমাদের সেই দিন?
স্কুল ছুটির পর সেই বাউন্ডুলে, ভবঘুরে উদাসীন।
বিকেল হলেই পাহাড়ের চূড়ায় বসতাম পাশাপাশি,
শীতল হাওয়ায় শরীর জুড়াত, মুখে অমলিন হাসি।
আজ সেখানে ইট-পাথরের দীর্ঘশ্বাসে ম্লান,
যন্ত্রের শব্দে হারিয়ে গেছে পাখির কলতান।
নিয়ে যা তোদের প্রযুক্তি সব, বিষিয়ে ওঠা প্রাণ,
ফিরিয়ে দে মোর লাল পাহাড়ের হারানো সুবাস-ঘ্রাণ।
আমাদের সেই সহজ জীবন ছিল সবার চেয়ে খাঁটি,
দেয়াং ছেড়ে চলে যা তোরা, মুক্তি পাক এ মাটি।
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ