সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় স্যালাইন হাতেই ‘বিচার চাইতে’ থানায় গেলেন কৃষক

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৪:৫৯ অপরাহ্ন


ধানি জমিতে বাছুরের ধান খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার শিকার চট্টগ্রামের পটিয়ার কৃষক আবদুল আলমের করুণ অবস্থা। স্যালাইন হাতেই তিনি ‘বিচার চাইতে’ গিয়েছেন পটিয়া থানায়।

রবিবার সকালে থানা কম্পাউন্ডে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে অসুস্থ আবদুল আলম একটি স্যালাইন স্ট্যান্ড হাতে বসে আছেন। কাঁধে হলুদ গামছা আর সবুজ লুঙ্গি পরা আলম বেশ দুর্বল দেখাচ্ছেন। তার পাশে তার স্ত্রী এবং দুটি সন্তান বিমর্ষ মুখে বসে আছেন। স্যালাইনের বোতলটি এক তরুণ উঁচিয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্তর পেটুয়া মাঝিরপাড়া জামেয়া মসজিদ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আবদুল আলম (৪৩) ওই এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে।

আবদুল আলমের পরিবার জানায়, হামলার পর তাকে প্রথমে পটিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোববার বেলা ১২টায় অসুস্থ শরীর নিয়ে স্যালাইন হাতে পটিয়া থানা কম্পাউন্ডে হাজির হন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে এসে তিনি বিচার দাবি করেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থা ও ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।

আলমের অভিযোগ, প্রতিবেশী নুর মোহাম্মদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বুধবার বিকেলে তার পালিত গরুর বাছুর নুর মোহাম্মদের ভাইয়ের জমির ধান খেয়েছে—এই অভিযোগে বাছুরটির পায়ে আঘাত করে আহত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নুর মোহাম্মদ সহ কয়েকজন মিলে কুপিয়ে জখম করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুর মোহাম্মদের ছোট ভাই শের মোহাম্মদ। তিনি বলেন, জমিতে গরুর বাছুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আবদুল আলম প্রথমে নুর মোহাম্মদকে ঘুষি মারেন। পরে নুর মোহাম্মদ তেড়ে গেলে আবদুল আলম নিচে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। আবদুল আলমের চিকিৎসার খরচও তারা বহন করেছেন বলে দাবি করেন শের মোহাম্মদ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।