
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময় একটি ইটভাটাকে জরিমানা এবং অপর একটির চুল্লি ধ্বংস করা হয়েছে।
রোববার দিনব্যাপী উপজেলার এওচিয়া ছনখোলা এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইন অমান্য করে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনের দায়ে মেসার্স মা ব্রিকসকে (এমবিএফ) ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়। অন্যদিকে মেসার্স খাজা থ্রি (কেবি-৩) নামের অপর একটি ইটভাটার বয়লার মেশিন জব্দ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভাটার আগুন নিভিয়ে এর চুল্লি অকার্যকর করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম সাতকানিয়ার এওচিয়া-ছনখোলা এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করে একাধিক ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংস করে যাচ্ছে। এর আগে খাজা থ্রি ইটভাটার মালিক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা দায়ের করেছিল। জরিমানা হওয়ার পরও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
তবে খাজা থ্রি ইটভাটার বর্তমান পরিচালনাকারী মো. শাহ আলম দাবি করেন, তিনি ভাড়া নিয়ে ভাটাটি পরিচালনা করছেন। আগের মালিকদের মজুদ করা মাটি দিয়েই ইট তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সাংবাদিকরা ভুল তথ্য দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন এবং এ কারণেই প্রশাসন তাকে মামলায় জড়াচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কোনো ইটভাটা পরিচালনা করা হলে ছাড় দেওয়া হবে না এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনাকে পরিবেশের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধ উল্লেখ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন ফয়সাল জানান, যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সমন্বিত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সদস্য, আনসার এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাতকানিয়া স্টেশনের সদস্যরা ভাটার আগুন নিভিয়ে কার্যক্রম বন্ধে সহায়তা করেন।