সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে রান পাহাড় ডিঙিয়ে বাংলাদেশের দারুণ জয়

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৬:০৮ অপরাহ্ন


তখন চট্টগ্রামের মাঠের বাতাসে একটা চাপা উত্তেজনা। ১৮৩ রানের লক্ষ্য সামনে। নিউজিল্যান্ড তাদের ইনিংস গুছিয়ে রেখে গেছে যেন একটা দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো। সেই দুর্গ ভাঙতে হবে বাংলাদেশকে। সহজ নয়, কেউ ভাবেননি সহজ হবে।

শুরুটা ঠিক স্বস্তির ছিল না। সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিম ব্যাট চালালেন বটে, কিন্তু ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছিলেন না রানের কাঁটা। অধিনায়ক লিটন দাস ২১ রান করে ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে, আর গ্যালারিতে একটা দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল। ম্যাচটা কি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে?

তখন এলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান, দুটো ছক্কা, ২০০ স্ট্রাইক রেটের এক ঝলসানো ক্যামিও। তিনি যেন বলে গেলেন, ভয় নেই, পথ আছে। সেই পথ ধরেই হাঁটতে শুরু করলেন তাওহিদ হৃদয়।

শেষ ৩০ বলে তখনও ৪৮ রান বাকি। হিসাবটা কঠিন, পরিস্থিতিটা আরও কঠিন। ধারাভাষ্যকারের গলায় উত্তেজনা, দর্শকদের বুকে ধুকপুকানি। ঠিক এই মুহূর্তে নাথান স্মিথের একটি ডেলিভারি হলো ম্যাচের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ব্যাট ঘোরালেন, চোখ না ঘুরিয়েই মারলেন এক অবিশ্বাস্য ‘নো লুক’ ছক্কা। গোটা মাঠ হতবাক। সেই ওভারেই এল ১৮ রান।

এরপর ১৭তম ওভারে শামীম যা করলেন, তা রূপকথার মতো। তিনটি চার, একটি ছক্কা। একটি মাত্র ওভার থেকে উঠে এল ২৫ রান। কিউই বোলাররা যেন দিশা হারালেন। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের এক তুফান ইনিংস খেলে অপরাজিত রইলেন শামীম।

অন্য প্রান্তে তাওহিদ হৃদয় খেললেন অন্য ধরনের এক ইনিংস। ঠান্ডা মাথায়, পরিকল্পিতভাবে। ২৭ বলে দুটো চার আর তিনটো ছক্কায় তুলে নিলেন ৫১ রানের হাফ সেঞ্চুরি। দলকে জেতালেন, মাঠ ছাড়লেন বীরের মতো।

মাত্র ১৮ ওভারেই বাংলাদেশ পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। ৬ উইকেটে জয়, তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে থাকার স্বস্তি।

এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দুজনেই ফিফটি তুলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল ২০০ পেরিয়ে যাবে কিউইরা। কিন্তু তখনই মাঠে আসর জমালেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৩২ রানে দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ভাঙলেন কিউই মেরুদণ্ড। শেষ দিকে নিক কেলির ৩৯ আর জশ ক্লার্কসনের ২৭ রানে ৬ উইকেটে ১৮২ রানেই থামল নিউজিল্যান্ড।

চট্টগ্রাম মনে রাখবে শামীমের সেই ‘নো লুক’ ছক্কাটির কথা। একটা মুহূর্ত, একটা শট, আর পুরো ম্যাচের চেহারা বদলে গেল। ক্রিকেট বারবার এভাবেই বলে, খেলা শেষ হওয়ার আগে শেষ হয় না।