
তপ্ত রোদে পুড়ছিল ধরা, চৌচির মাঠ-ঘাট,
তৃষ্ণায় কাতর চাতকপাখি, জনশূন্য হাট।
অগ্নিবাণে দগ্ধ আকাশ, বাতাস ছিল স্থির,
অবশেষে নামল বৃষ্টি, কাঁপিয়ে নদীর তীর।
শান্তি এলো মেঘের ডানায়, শীতল হলো প্রাণ,
আঁধার ঘেরা আকাশ জুড়ে বারিধারার গান।
কিন্তু সেই গানের সুরে কৃষক পেল ভয়,
স্বস্তি কি আজ শাস্তির কাছে মানল পরাজয়?
মাঠে এখন পাকা ধান, কাঁচা সোনার রং,
অকাল বৃষ্টি কালবৈশাখী দেখায় মরণ ঢং।
ডুবেছে জমি, তলিয়ে গেছে ঘাম-ঝরানো শ্রম,
কৃষক দেখে সর্ষে ফুল, সব যেন এক ভ্রম।
গোলা ভরা ধানের স্বপ্ন মিশেছে আজ কাদা-জলে,
অন্নদাতার হাহাকারে আকাশ-বাতাস টলে।
ওদিকে আবার মেকি নগরীর আধুনিকতার বেশ,
একটু জলেই হারিয়ে যায় উন্নয়নের রেশ।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, রুদ্ধ নালা-নর্দমা,
প্রকৃতি কি আর করবে মোদের এমন পাপে ক্ষমা?
পিচঢালা পথ নদী হয়েছে, মানুষ আজ নৌকাহীন,
নোংরা জলে সয়লাব সব, শহর হলো বিলীন।
উন্নয়নের অট্টালিকা জলের ওপর ভাসে,
বিবেকহীন এই সমাজ দেখে নিয়তি শুধু হাসে।
সবুজ ঘাস আর খোলা মাটি ঢেকেছি কংক্রিটে,
প্লাস্টিক আর পলিথিনে বিষ ঢুকেছে ইটে।
বৃষ্টি তো আজ পথ খুঁজে পায় না শহর ঘুরে,
তাই তো সে আজ ঘর-গেরস্তি ভাসিয়ে নেয় দূরে।
শান্তির এই বৃষ্টি কেন কান্নায় হলো শেষ,
একই সাথে দেখছি আজ বিপন্ন এক দেশ।
কৃষক হারায় সোনার ফসল, শহর হারায় গতি,
ভুল পরিকল্পনায় আজ দেশের চরম ক্ষতি।
১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ