সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভুজপুরে পানির নিচে সড়ক, দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৩:১০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পশ্চিম ভূজপুর বড় মসজিদ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত এবং আধা কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সড়কটি খুঁড়ে দুই মাস পার হলেও কাজ শেষ না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন তহবিলের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সড়কটি উন্নয়নে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৮০ দিনের কার্যাদেশ পেয়ে গত মার্চ থেকে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসবি ট্রেডিং।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের নামে মাটি খুঁড়ে ফেলে রেখে দীর্ঘদিন কোনো কাজ করা হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বর্ষা শুরুর আগে অন্তত বালি ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধও উপেক্ষিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬-৭ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অচল হয়ে পড়েছে। চার গ্রামের মানুষ কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ জনগণ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এলাকার সাথে প্রধান সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান চৌধুরী শিপন জানান, তিনি বহুবার অনুরোধ করেছেন অন্তত বর্ষা শুরুর আগে বালি দিয়ে হলেও সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে দিতে। কিন্তু তারা নানা টালবাহানা করে কাজটি করেননি। ফলে আজ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে মো. শাহজাহান চৌধুরী শিপন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসবি ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কাজী বেলাল সিকদার এ বিষয়ে বলেন, কাজ চলছে এবং এরই মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি শেষ হলে বালি, বেইস ও ম্যাকাডমের কাজ শেষ হবে এবং দ্রুতই কাজ সম্পন্ন করবেন বলে কাজী বেলাল সিকদার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোনাইদ আবছার চৌধুরী জানান, যথাসময়ে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোদমে ও কম সময়ে কাজ শেষ করবে বলে মোহাম্মদ জোনাইদ আবছার চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন।