সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তলিয়ে গেছে বোরোধান

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২০ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পানিতে বিস্তীর্ণ বোরোধানের খেত তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিন-রাত মিলিয়ে বেশ কয়েক দফায় দমকা হাওয়া বয়ে গেছে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এতে কর্তনের সময় ঘনিয়ে আসা বোরোধানের খেত হেলে-দুলে পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি এবং কয়েক দফার কালবৈশাখী ঝড়ের দমকা হাওয়া সরাসরি ধানখেতে আঘাত হানে।

কোনাখালী ইউনিয়নের কৃষক শামসুল আলম জানান, কালবৈশাখী ঝড়ের ধাক্কায় হেলে-দুলে পড়ে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বেশিরভাগ কৃষকের বোরোধানের খেত। এতে ধানখেত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএমচর ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের জানান, তার রোপণ করা বোরোধান কর্তনের সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে পুরো খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “এখন পানি নিষ্কাশনের পর নুইয়ে পড়া ধান গাছ কোনোমতে কাটার চিন্তা করছি।” তবে অপরিপক্ব অবস্থায় ধান কাটার কারণে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। এর মধ্যেই ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার বোরোধানের খেত পানিতে তলিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ব্লকভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিবেদন জমা দিলে নিট ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।