সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী কক্সবাজারে উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১ মে ২০২৬ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মাদ্রাসাছাত্রীকে দুদিন পর কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল কক্সবাজারের কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানায়, চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের প্রবাসী শাহা আলমের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ২৮ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ২৯ এপ্রিল ভিকটিমের ভাই শিহাব উদ্দিন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে গ্রেপ্তার করে।”

“জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিমের অবস্থান অস্বীকার করলেও সন্দেহের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরে থাকা দুই রাখাইন তরুণী পালিয়ে যায়।”

ওসি মনিরের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তানজিমা ভিকটিমের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে নেওয়া ও স্বর্ণের চেইন উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে লাইট হাউস এলাকার বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে একটি সক্রিয় নারী পাচার চক্র জড়িত বলে ধারণা করছেন তিনি। তার ভাষ্যে, এই চক্র অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে।

গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে ওসি মনির বলেন, শুক্রবার তাকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ চক্রের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।