সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্রমিকের ঘাম, শোষকের আরাম

জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ১ মে ২০২৬ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ন


শ্রমিক দিবস আসে আর যায়, ক্যালেন্ডার পাল্টায় শুধু,
শ্রমিকের ঘামে ভেজা তপ্ত মাটি, আজও খাঁ খাঁ মরু।
আগের সেই ‘মাঝি’ নামের দানবটা ছিল কত চেনা,
শ্রম কিনে সে বাড়াত কেবল শ্রমিকের যত দেনা।

যুগের হাওয়া বদলেছে আজ, বদলেছে দস্যুর নাম,
‘ঠিকাদার’ সেজে শুষে নিচ্ছে শ্রমিকের সব ঘাম।
রক্ত পানি করা খাটুনিতে যারা দালান ওঠায়,
তাদের ঘরের হাঁড়িতেই কেন অভাবের জ্বালা ফোটে?

দিনের শেষে ক্লান্ত শরীরে শ্রমিক যখন দাঁড়ায়,
বিনিময় চেয়ে করুণ স্বরে হাত দুটি সে বাড়ায়।
“চাল-ডাল নেব, পথ চেয়ে আছে চাতকপাখির বাড়ি,
বউ-বাচ্চা উপোস আছে, পাওনাটা দেন ছাড়ি!”

শ্রমিকের ঘামে দালালি করে ঠিকাদার গড়ে শান,
শীতাতপ ঘরে বসে পায় সে রাজকীয় সম্মান।
হকের টাকা চাইতে শ্রমিক সেই অফিসে যদি যায়—
ঠিকাদার তাকে ধমক দিয়ে কটু কথা শোনায়।

“তফাতে দাঁড়া, দূরে থাক তুই, কেন ভেতরে আসিস?
সাহেবদের এই গদিতে কেন রে ভাগ বসাতে চাস?”
ঠিকাদার বেটা ধমক দিয়ে কয়, “বিল হোক আগে শেষ,
এখনই কেন টাকা চাস তুই? স্বভাব তো ভারি বেশ!”

সম্পদের পাহাড় গড়ছে ওরা শ্রমিকের রক্ত মেখে,
হকের পাওনা চাইলে ওরা শাসায় চোখ রাঙিয়ে।
সব বদলেছে, বদলায়নি শোষকের ঐ মন,
ছলচাতুরীর বেড়াজালে কাটে শ্রমিকের জীবন।

দুনিয়ার চাকা ঘোরে যাদের শক্ত হাতের জোরে,
বঞ্চনার ঐ বিষাদ সিন্ধু তাদেরই ঘিরে ধরে।
শোনো রে শোষক, হুঁশিয়ার হও, সময় এসেছে এবার,
শ্রমিকের হাতে হাতুড়ি যখন, ভাঙবে তোদের দ্বার।

যাদের ঘামে পাহাড় গড়েছিস, তারা যদি আজ জাগে,
সিংহাসন তোর ধুলোয় মিশবে রুদ্র দহনের আগে।
হক কেড়ে নিয়ে অট্টালিকায় করিস যত আস্ফালন,
মজলুমের এই দীর্ঘশ্বাসই আনবে তোদের পতন।

রক্তের দামে দালালি থামাও, পাওনা করো শোধ,
নইলে প্লাবন হয়ে আছড়ে পড়বে শ্রমিকের মহাক্রোধ।