সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়া নিউ মার্কেটের পরিত্যক্ত কক্ষে মাদকের আসর, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ৩ মে ২০২৬ | ৯:৪৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘পটিয়া নিউ মার্কেট’ ভবনের পরিত্যক্ত কক্ষগুলো মাদকসেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত সাততলা ভবনটির চতুর্থ তলায় ‘গ্রীন চিলি’, ‘সোনালী সন্ধ্যা’, ‘ফুডেক্স’ ও ‘এএফসি’ নামে চারটি রেস্টুরেন্ট চালু রয়েছে। নির্জন পরিবেশে পরিচালিত এসব রেস্টুরেন্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

পঞ্চম তলায় মাদকসেবনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। সেখানে ফেনসিডিলের খালি বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও ব্যবহৃত কনডমের প্যাকেট ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

চতুর্থ তলায় রেস্টুরেন্টের বসার কেবিনগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে তৈরি, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুযোগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সন্দেহজনক লোকজন এসব স্থানে যাতায়াত করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। রেস্টুরেন্টে আড্ডার আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

চতুর্থ তলার ‘গ্রীন চিলি’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী শারমিন চৌধুরী বলেন, “আমরা রাত ৮টার আগেই রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিই। এরপর মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডা বসে—এটি সত্য।” কিছু যুগলকে লক্ষ্য করে বখাটেদের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।

নিচতলার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেন না, ফলে এসব ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়।

পটিয়া নিউ মার্কেটের অন্যতম মালিক মো. লোকমান হাকিম বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আমরা এসব রোধ করতে পারছি না। কিছুদিন পরপর তাদের তাড়ানো হলেও তারা পুনরায় ফিরে আসে। একপর্যায়ে চতুর্থ তলায় টিনের দরজা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও মাদকসেবীরা ভেঙে ফেলে।”

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “আমরা কোনো অপরাধকে ছোট করে দেখি না। এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবনটিকে অপরাধমুক্ত করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।