
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে লবণচাষি ও মিলারদের নিয়ে দুটি পৃথক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে পুষ্টি উন্নয়নের বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক লবণচাষি ও মিলার এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আয়োজক সূত্র জানায়, চৌফলদণ্ডী মডেল হাই স্কুলে লবণচাষিদের জন্য এবং বিসিক ভবনে লবণ মিলারদের জন্য আলাদাভাবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল)’ এবং গেইনের ‘জিরো হাঙ্গার প্রাইভেট সেক্টর প্লেজ ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রশিক্ষণে মূলত জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ, টেকসই উৎপাদন এবং লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পুষ্টি–সংবেদনশীল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে লবণচাষি ও মিলারদের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবিকা সুরক্ষিত হবে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কক্সবাজারে জলবায়ু সহনশীল লবণ উৎপাদনে অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিসিক চেয়ারম্যান।
গেইনের ‘ড্রাইভার্স অব ফুড সিস্টেমস ট্রান্সফরমেশন’ বিভাগের পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল জানান, একটি সহনশীল লবণ খাত গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি।
টেকসই উৎপাদন ও জীবিকা নিশ্চিতে গেইন জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতি ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিসিকের পরিচালক (প্রমোশন ও এক্সটেনশন) মো. আব্দুল মতিন, এক্সটেনশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সারওয়ার হোসেন এবং কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া গেইনের প্রকল্প সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান বাপ্পীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে অংশ নেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে অনিয়মিত আবহাওয়া ও লবণাক্ততার ওঠানামার মতো চ্যালেঞ্জগুলো লবণ উৎপাদনে কেমন প্রভাব ফেলে, তা এই প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, গুণগত মান বজায় রাখা এবং পুষ্টিমান নিশ্চিত করার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে আয়োডিনযুক্ত লবণের মাধ্যমে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি পূরণের বিষয়টিও সেখানে গুরুত্ব পায়।
এই প্রশিক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই জীবিকা এবং কার্যকর জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা জানান। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশে ‘কল’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয়করণ প্রক্রিয়াকেও এগিয়ে নেবে।