
দক্ষিণ চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রথম কারিগরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড টেকনোলজি’।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দক্ষিণ পাশে নিরিবিলি পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
চলতি মে মাস থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে তিন মাস মেয়াদি কেয়ারগিভিং কোর্স চালু হচ্ছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশেও আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ রয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে স্বাস্থ্যবিষয়ক এই কারিগরি প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষতা অর্জন শেষে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্যোক্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদেশি ধারণা থেকে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটি পটিয়ায় স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পটিয়া তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
বর্তমানে একতলা বিশিষ্ট চারটি কক্ষে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির ট্রেইনার মো. মাসুদুল আলম জানান, প্রথম ধাপে এখানে চারটি কোর্স চালু করা হয়েছে। এগুলো হলো—সাধারণ পরিচর্যা (স্তর ২), প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (স্তর ২), নবজাতক, ছোট শিশু ও বাচ্চাদের পরিচর্যা (স্তর ৩) এবং ডিমেনশিয়া রোগীর পরিচর্যা (স্তর ৩)।
উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও ইনস্ট্রাক্টরদের মাধ্যমে এখানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
মো. মাসুদুল আলম আরও জানান, বছরের যেকোনো সময় এসব কোর্সে ভর্তি হওয়া যাবে এবং প্রশিক্ষণার্থী সাপেক্ষে প্রতি মাসেই নতুন ব্যাচ শুরু হবে। ভর্তির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
মানবসেবাকে একটি মহান পেশা উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কেয়ারগিভিং সেই সেবারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক রূপ। বর্তমান বিশ্বে দক্ষ, মানবিক ও পেশাদার কেয়ারগিভারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ারগিভাররা দেশ-বিদেশে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।