
এবার বর্ষাকালে চট্টগ্রামের নাগরিকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত শহর পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এখানে তিনি কোনো নিরাশা দেখেন না, শুধু একটি বিষয়কে ভয় পাচ্ছেন আর তা হলো জোয়ার, যা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা: সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, সবার নিশ্চয়ই মনে আছে ২০২২-২৩ বা ২০২৪ সালেও যখন বর্ষা হয়েছে, তখন বহদ্দারহাট থেকে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম সাহেব বের হতে পারেননি। কিন্তু ২০২৫ সালে বহদ্দারহাটে কোনো পানি ওঠেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, চকবাজারে পানির জন্য মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। কিন্তু ২০২৫ সালে মানুষ পানির জন্য কষ্ট পায়নি। কাজেই এত নিরাশ হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নগরবাসীর সেবায় কোনো আপস করেননি উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বহদ্দারহাটে নালার ওপর গড়ে ওঠা যে বড় মার্কেট থেকে সিটি করপোরেশন ২০ লাখ টাকা ভাড়া পেত, তিনি তা এককথায় ভেঙে দিয়েছেন। যার কারণে বহদ্দারহাটে এখন আর পানি জমে থাকে না। তিনি আরও বলেন, তাদের প্রস্তুতি আগামী ছয় মাসের জন্য। কারণ এখন আর ষড়ঋতু নেই, ছয় মাসই বর্ষাকাল দেখা যায়। তাই জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি মাথায় রেখে তারা কাজ করছেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনারটি উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়ার মো. আরিফ ও চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, মূল সমস্যা সেখানে, যারা সেদিন ছয় থেকে নয় হাজার কোটি টাকা চুরি করে সিটি করপোরেশনকে এড়িয়ে জোর করে প্রকল্প নিয়েছিল। পরে সক্ষমতা নেই বলে তারা সেনাবাহিনী ভাড়া করে। তিনি বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিমের সততার প্রশংসা করে বলেন, তিনি জুলাই-আগস্টের পরে এসেছেন এবং তিনি অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। তাই এসব ক্ষেত্রে কারও দোষ নেই বলে তিনি মনে করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে কীভাবে আরও সচেতন করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা এই সেমিনার থেকে পাওয়া গেছে। খাল-নালা দখলমুক্ত করা ও খালের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণে বিশেষজ্ঞ নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে খাল ও নালায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আলোচনায় অংশ নেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও ফোরাম ফর প্ল্যানড চট্টগ্রামের সভাপতি প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহ নওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, রাশিয়ান অনারারি কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, ঈসা আনসারী এবং অভিক ওসমান।
সেমিনারে বক্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে নালা-খালে ময়লা ফেললে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নালা-খালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং পলিথিনমুক্ত শহর গড়ে তোলা।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সেলিম ও আবুল হাসনাত এবং উপকমিটির সদস্য ডেইজি মওদুদ, মো. শহিদুল ইসলাম, আরিচ আহমেদ শাহ, আবু মোশারফ রাসেল, ফারুক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ আজাদ, জামাল উদ্দিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, মনিরুল ইসলাম মুন্না ও বাকি বিল্লাহ প্রমুখ।