
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় বক্তারা সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রোববার সকাল ১১টার দিকে কেরানীহাট ট্রাফিক মোড়ে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে শাহাদাত হত্যার প্রতিবাদে উপস্থিত জনতা বিক্ষোভধর্মী স্লোগানও দেন।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন শাহাদাত। এ সময় দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অস্ত্র উঁচিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত শাহাদাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৮ এপ্রিল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কেরানীহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জায়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, ঢেমশা ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আলম, মাস্টার আবু তাহের, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ এবং মাসুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে কেরানীহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জায়নাল আবেদীন বলেন, সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এসব সন্ত্রাসী চক্রকে কিছু প্রভাবশালী মহল প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের পর দিন খুন, হামলা, চাঁদাবাজি চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আজ তারা শাহাদাতকে হারিয়েছেন, কাল হয়তো আরও কারও লাশ দেখতে হবে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাতকানিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বলেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।