
বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় মে মাসের দুপুর মানেই তীব্র গরম। সমুদ্রের কাছে হলেও বাতাস সবসময় স্বস্তি দেয় না। এই গরমের মধ্যেই প্রতিদিন ক্লাসে বসতে হতো ছনুয়া উপকূলীয় হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের। ছাদের দিকে তাকালে দেখা যেত ফাঁকা। সিলিং ফ্যান নেই, বা থাকলেও পর্যাপ্ত নয়। বইয়ের পাতায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ত ঘামে ভেজা এই বিকেলগুলোতে।
মাদ্রাসাটি ছনুয়া ইউনিয়নের একমাত্র এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানেই ভিড় করে। শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা শুনছে, কিন্তু গরমের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। সমস্যাটা পুরনো, কিন্তু সমাধান আসছিল না।
গত এপ্রিলে দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. আমিরুল হক, যিনি এমরুল কায়েস নামেই পরিচিত। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সেদিন তার সামনে তুলে ধরেছিলেন ফ্যানের সংকটের কথা। তিনি শুনলেন, এবং কথা দিলেন।
কথা শুধু কথায় থাকেনি। রবিবার (১০ মে) ব্যক্তিগত উদ্যোগে আটটি উন্নতমানের সিলিং ফ্যান মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন তিনি। সঙ্গে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে সহযোগিতা হিসেবে নগদ দশ হাজার টাকা।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদ বললেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে গরমের কষ্ট ভোগ করছিল। এমরুল কায়েস যেভাবে দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
এমরুল কায়েস নিজে বললেন, প্রতিষ্ঠানটি তার ইউনিয়নের ঐতিহ্যের অংশ। নতুন সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, সেই যাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে তিনি আনন্দিত।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা এই মানুষটির পরিচয় শুধু সমাজসেবক হিসেবে নয়। নিজের এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাবার নামে আলহাজ্ব মৌলভী নজরুল ইসলাম পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, এবং শরীফা-নজরুল মডেল মাদ্রাসা। চট্টগ্রামে রয়েছে তার শরীফা আর্ট স্কুল, শরীফা সুন্দর লেখা শেখার স্কুল এবং অরবিট ক্রেডিট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষার পেছনে তার এই দীর্ঘ বিনিয়োগ তাকে আলাদা করে চেনায়।
আটটি সিলিং ফ্যান হয়তো ছোট একটি পদক্ষেপ। কিন্তু যে শিক্ষার্থী গরমে ঘামতে ঘামতে বোর্ডের লেখা মনে রাখার চেষ্টা করছিল, তার কাছে এই পরিবর্তন ছোট নয়।