সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

একুশে পত্রিকায় সংবাদ: ফটিকছড়িতে সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ মে ২০২৬ | ৭:১৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার গার্ডের দোকান থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২২ মে একুশে পত্রিকার অনলাইনে ‘ফটিকছড়িতে সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দায় এড়াতে পাল্টা অভিযোগ!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে ব্যবহৃত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে যেন নতুন করে কাজ শুরু করা হয়।

সেই নির্দেশনার পর রোববার (১০ মে) সকাল থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবারও মাঠে কাজ শুরু করেছে। পুরোনো খোয়া ও অপ্রয়োজনীয় উপকরণ সরিয়ে সেখানে নতুন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী জানান, সংবাদ প্রকাশ ও স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রকল্পের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ারও অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময় শেষের পথে থাকলেও কাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশেরও কম বলে জানা যায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এ এস বি লিমিটেড ও ফামানটেক কর্পোরেশন নামের দুটি প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করছে যে, ইটভাটার সরবরাহ করা কিছু নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় তা ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই মানহীন উপকরণ ব্যবহার ও কাজে চরম গাফিলতি ছিল।

সব মিলিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের সক্রিয়তা বাড়লেও, শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় থাকা এবং সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে এখনো স্থানীয়দের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গেছে।