
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটির অনুমোদনের পর পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই কমিটিতে স্থান পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দেন। এই কমিটিতে ১৮ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৫৫ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
এই কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় ফেসবুক লাইভে এসে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন পশ্চিম বাঁশখালী উপকূলীয় ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল কুদ্দুস খাঁন বুলবুল। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের জীবন ও যৌবন হারিয়ে তিনি সবকিছু ধ্বংস করেছেন।
ফেসবুক লাইভে আবদুল কুদ্দুস খাঁন বুলবুল জানান, তিনি ২০০৮ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০৯ ও ২০১১ সালে বাহারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান আহমদের পক্ষে তিনি সরাসরি মাঠে কাজ করেন। এ ছাড়া বাহারছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওসমান গনীর নেতৃত্বে দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
২০১৪ সালে কাজীর দেউড়িতে পুলিশের টিয়ার শেল খেয়ে ড্রেনে পড়ে আহত হওয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। তিনি জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বাবা-মাকে হারানোর পরও তিনি রাজনীতি থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছপা হননি। তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বিদেশে গিয়ে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও তিনি দলের পেছনে সময় দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সিভি জমা দেওয়ার পরও মূল্যায়ন হয়নি জানিয়ে এই ছাত্রদল নেতা বলেন, তার অসংখ্য জুনিয়র দক্ষিণ জেলার বর্ধিত কমিটিতে স্থান পেলেও তার জায়গা হয়নি। ন্যূনতম সদস্য পদ না পাওয়ায় কর্মী ও সহযোদ্ধাদের কাছে জবাবদিহি করা নিয়ে তিনি চরম বিব্রত। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের এমন বঞ্চনার কারণে তার আত্মহত্যার কথা মনে হলেও সেটি মহাপাপ বলে তিনি বিরত আছেন।
সহযোদ্ধাদের রাজনীতি ছেড়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুল কুদ্দুস খাঁন বুলবুল বলেন, দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেন, তাদের মূল্যায়ন হয় না। বর্তমান রাজনীতিতে চুরি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতে পারলেই সফল হওয়া যায়, আর ন্যায়ের পক্ষে থাকলে দল গুরুত্ব দেয় না।