সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের বিদায়ে সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়ে প্রশংসিত এমপি নুরুল আমিন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৪ মে ২০২৬ | ১০:২৮ অপরাহ্ন


বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা এবং দাফনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন স্থানীয় বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল আমিন।

বৃহস্পতিবার মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মোশাররফ হোসেনকে দাফন করা হয়। এর আগে বাদ আসর স্থানীয় ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলমত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাজা ও দাফন নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের এমপি নুরুল আমিন নিজের ফেসবুক পেজে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা দেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, বৃহস্পতিবার মিরসরাই উপজেলার কোথাও আমাদের কোনো দলীয় কর্মসূচি নেই।

তিনি আরও লেখেন, সংগঠনের নামে কোনো ব্যক্তি কর্মসূচির কথা বলে জনমনে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সব নেতাকর্মীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এনাম চৌধুরী নামে একজন লেখেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। আমাদের এমপি মহোদয়ের দিকনির্দেশনা মেনে চলাই হচ্ছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার। ধৈর্যই মহত্বের লক্ষণ।

বেলাল হোসেন নামের আরেকজন লেখেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য। আপনার এই লেখনি থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া দরকার। নূর মোহাম্মদ নামে এক বিএনপি সমর্থক লেখেন, আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না।

জানাজায় উপস্থিত মানুষের মুখেও এমপি নুরুল আমিনের প্রশংসা শোনা যায়।

জানাজায় অংশ নেওয়া সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তারা জানাজায় থাকার বিষয়ে কিছুটা দ্বন্দ্বে ছিলেন। কিন্তু বিএনপির এমপির ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে তারা আশান্বিত হন। পরে অনেকেই জানাজায় অংশ নিয়ে মোশাররফ হোসেনকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল থেকে উঠে আসা নুরুল আমিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে তার জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু করেন। এরপর তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।