
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের সুরাজপুর বোয়ালমারী খালের দুই কিলোমিটার অংশে খননকাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এক যুগেরও বেশি সময় পর এই খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে ওই এলাকার অন্তত ৪০০ একর অনাবাদি কৃষিজমি পুনরায় চাষের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলার পাহাড়ি জনপদ সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের প্রবহমান বোয়ালমারী শাখা খালটি প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটিতে ভরাট হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও যথাযথ তদারকির অভাবে খালটি খননে এতদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সেচ সুবিধার অভাবে ওই এলাকার তিন শতাধিক কৃষককে নিরবচ্ছিন্ন চাষাবাদ নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
কৃষকদের এই দুঃখ লাঘবে এগিয়ে আসেন তরুণ সমাজকর্মী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল কবির চৌধুরী। স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হককে জানান। তাঁদের সুপারিশে সুরাজপুরের ভরাট এই বোয়ালমারী খাল খননে ত্বরিত উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কক্সবাজার সেচ বিভাগ।
বিএডিসি চকরিয়া উপজেলার মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত উপসহকারী প্রকৌশলীরা সরেজমিন তদন্ত করে খালটি খননের গুরুত্ব বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠান। এরপর ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিসমিল্লাহ বিল্ডার্স ও ইন্টিগ্রেড ট্রেডিং নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুতে খালের খননকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠান দুটি। খালের মোহনা অংশে সেতুতে দাঁড়িয়ে এই খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, কক্সবাজার বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, চকরিয়া উপজেলা বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল কবির চৌধুরী এবং স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল কবির চৌধুরী জানান, বোয়ালমারী খালটি এলাকার একটি পুরোনো পানি নিষ্কাশন পথ। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বর্ষাকালে খালের পাশের দুটি পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটিতে এটি ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় সেচ সুবিধার অভাবে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি বছরের পর বছর অনাবাদি রয়ে যায়। কৃষকদের অভাবনীয় দুর্দশার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সহযোগিতায় বিএডিসি কর্তৃপক্ষ খালটির খননকাজ শুরু করায় এলাকার কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
বিএডিসি চকরিয়া উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এই খননকাজ শুরু হয়েছে। বিএডিসির সেচ বিভাগের তদারকিতে দুই কিলোমিটার অংশে খননকাজ সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও শাহীন দেলোয়ার। খননকাজ শেষ হলে খালে পানির প্রবাহ স্থায়ীভাবে রক্ষিত হবে এবং কৃষকদের সেচসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।