
রাতের আঁধারে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া, হরহামেশা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সদরের চিরিঙ্গা মাতামুহুরী সেতুতে অবশেষে বসানো হয়েছে ৮০টি সোলার বাতি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অর্থায়নে প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলা সদরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই সেতুর দুই পাশের ফুটপাতে সর্বমোট ৮০টি সোলার বাতি স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যা নামলেই সেতুর দুই পাশে স্থাপিত সোলার বাতিগুলো জ্বলে ওঠে। রাতের আকাশ যত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়, সোলার বাতিগুলো পুরো জংশনজুড়ে তত বেশি আলো ছড়াতে থাকে। এতে মাতামুহুরী সেতুর রাতের পরিবেশ এখন এক ভিন্ন আবহে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মাত্র দশ দিন আগেও সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে সেতুর ফুটপাত লাগোয়া সড়ক দিয়ে ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাতায়াত করতে সাহস পেতেন না সাধারণ মানুষ। সেখানে এখন সেতুর আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতেও নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচল করছেন।
সওজ চকরিয়া উপবিভাগীয় কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাহাত আলম জানান, গত সপ্তাহ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাতামুহুরী সেতুর দুই পাশের ফুটপাতে সোলার বাতি স্থাপনের কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ বাতি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এই কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে স্থাপিত সোলার বাতিগুলো সন্ধ্যার পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠে এলাকাজুড়ে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন লাইটিং ব্যবস্থার কারণে সেতুটিতে দিনে ও রাতে নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে জাইকার অর্থায়নে ২৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রস বর্ডার রোড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের অধীনে ৩২১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩০ মিটার প্রস্থের ছয় লেনের আধুনিক মাতামুহুরী সেতুটি নির্মিত হয়। কিন্তু লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় সেই থেকে রাতের বেলায় সেতুটিতে যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
গত পাঁচ বছর ধরে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেই সেতু দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের ওপর হামলে পড়ত ছিনতাইকারী চক্র। এমনকি নির্জনতার সুযোগে সেতুর নিচে নদীর চর অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। কয়েকটি খুনের ঘটনার পর মরদেহও ফেলে দেওয়া হয় এই সেতুর নিচে। ফলে দিন দিন এটি রাতের বেলায় চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
মাতামুহুরী সেতুতে লাইটিংয়ের উদ্যোগের বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনউদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানান, জাইকার অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হলেও তখন সওজ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না। রাতের বেলায় এলাকাটি অনিরাপদ হয়ে ওঠার বিষয়টি নজরে আসার পর সেতুতে লাইটিং বসানোর জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়।
তিনি জানান, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সহযোগিতায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর দুই পাশে ৮০টি আধুনিক সোলার বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এই বাতিগুলো বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এবং প্রতিদিন চালু বা বন্ধ করার জন্য বাড়তি লোকবল নিয়োগের প্রয়োজন হবে না। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, মাতামুহুরী সেতুতে লাইটিংয়ের কাজ বাস্তবায়িত হওয়ায় এখন আর সেখানে অনিরাপদ পরিবেশ নেই। যাত্রী ও পথচারীরা এখন স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী।